দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিতে ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের আইনি নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে নির্বাচন আটকে রেখে একের পর এক অ্যাডহক ও বিশেষ কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ পরিস্থিতি ও জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে নিয়মিত কমিটির পরিবর্তে অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রবণতা বাড়ছে।
পতিত সরকারের আমল থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়। পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সব পরিচালনা কমিটি বাতিল করে ছয় মাস মেয়াদি অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও নির্বাচনের পথে না হেঁটে প্রবিধানমালার বিশেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন করে অ্যাডহক ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কমিটি গঠনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, অ্যাডহক কমিটির সুযোগ নিয়ে দলীয়করণ, প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিষ্ঠান দখলের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি সমর্থিত রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এসব অ্যাডহক ও বিশেষ কমিটিতে যুক্ত হয়ে দলীয়করণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে পরিচালনা পর্ষদ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বাড়ছে বলে দাবি করছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
এরই একটি বড় উদাহরণ রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গত ২৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হওয়া সত্ত্বেও ভোটগ্রহণের আগের রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তা রহস্যজনকভাবে স্থগিত করা হয়। দীর্ঘদিন পার হলেও নতুন কোনো ভোটের তারিখ ঘোষণা না করায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনপ্রার্থী ও সাধারণ অভিভাবকরা।
অন্যদিকে, দেশের সব দাখিল ও আলিম মাদরাসার মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। নতুন নির্দেশনায় সভাপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তিনজনের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বোর্ডে পাঠানোর নিয়ম করা হয়েছে। তবে বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের ফলে নিয়মিত নির্বাচিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অ্যাডহক কমিটির এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ছয় মাসের বেশি অ্যাডহক কমিটি রাখার নিয়ম নেই। নিয়মিত নির্বাচিত কমিটির দিকেই যেতে হবে এবং এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত প্রবিধানমালা তৈরির কাজ চলছে।
তবে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী এবং অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করা সত্ত্বেও কেন নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। অ্যাডহক কমিটির প্রধান কাজই হলো দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা। একটানা অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালালে সেখানে দলীয় রাজনীতি ও অরাজকতা জন্ম নেয়, তাই অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সরাসরি ভোটাধিকারে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।







