মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রতি এক জন মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করার বিনিময়ে ৩০ হাজার ডলার করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি নিশ্চিত করে বলেন, অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের আইনি ও সামরিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখন থেকে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের আর কোনো অনুমতি বা সুযোগ নেই।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববাসীর জেনে রাখা উচিত যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আর কখনো তাদের আগের অবস্থানে বা শক্তিতে ফিরে যেতে পারবে না। ইরান যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার রাখবে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের এই সেনা কর্মকর্তা। তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালী দখল করতে আসেন, তবে ইরানের সীমান্ত রক্ষীরা তাঁর পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।
আমির হাতামি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অপরাধীর মতো কথা বলছেন এবং হরমুজ প্রণালিকে নিজের ‘অপরাধের ভূমি’র অংশ হিসেবে দাবি করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি নাকি কেবল মজা করছিলেন।
তবে এ ধরনের সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো কথা বলা বা মজা করাও সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া বলে মন্তব্য করেন ইরানের সেনাপ্রধান। ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং এর সুরক্ষায় নিয়োজিত রক্ষীরা যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।







