২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বগুড়ার প্রথম শহীদ হন ১৬ বছরের কিশোর সিয়াম শুভ। সেদিন জীবিকার কাজের ফাঁকে মিছিলে যোগ দিয়ে শহরের স্টেশন সড়কের পালপাড়া মন্দির এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় সে। ছররা গুলিতে তার মাথা, চোখ, মুখ, বুক, পেট ও পা সহ পুরো শরীর মারাত্মকভাবে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল।
সিয়ামের শৈশব থেকেই কঠিন জীবনসংগ্রাম শুরু হয়। তার জন্মদাতা বাবা বাবু মিয়া ও মা আয়েশা বেগম দুজনই প্রয়াত। মাত্র ৭ বছর বয়সে বগুড়া শহরে এসে হারিয়ে যাওয়ার পর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে কুড়িয়ে পান শাপলা বেগম ও তাঁর স্বামী বাসচালক আশিক। পরবর্তী সময়ে পরম মায়ায় তাঁরাই সিয়ামকে লালন-পালন করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য সিয়াম একটি ভাঙাড়ির দোকানে কাজ করত।
তবে আন্দোলনে সিয়ামের মতো কিশোর ও তরুণদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে না ধরে দেশের মূলধারার কিছু গণমাধ্যম ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভ্রান্তিকর ফ্রেমিং তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা ট্রিবিউনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে জুলাই শহীদদের ত্যাগকে খাটো করা এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে একপেশে ন্যারেটিভ জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন তরুণদের মতে, সংবাদমাধ্যমগুলোর এমন পক্ষপাতদুষ্ট নীতি ও ট্যাগিং কালচার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি এবং শহীদদের অপমান করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম সোচ্চার রয়েছে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদী লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।







