মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। বিপরীতে, তাঁর অসন্তুষ্টি একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকাও মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাধনা।
হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে সহায়ক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি হলো—
১. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
রাগ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে রাগের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বা কাজ করে বসে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। ইসলাম তাই রাগ দমন ও নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দিয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘তুমি রাগ কোরো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৯৬)
অন্য এক হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণকারীকে প্রকৃত শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)
২. সদকা করা
আল্লাহ মানুষের সম্পদে অন্যের অধিকার রেখেছেন। দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সম্পদ ব্যয় করা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় সদকা প্রতিপালকের ক্রোধ প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু রোধ করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৬৪)
দান করলে সম্পদ কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং হাদিসে সদকার মাধ্যমে কল্যাণ ও বরকত লাভের কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)
৩. পিতা-মাতাকে খুশি রাখা
পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁদের সম্মান করা, সেবা করা এবং তাঁদের কষ্ট না দেওয়া সন্তানের অন্যতম দায়িত্ব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রবের সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং রবের অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৮৯৯)
পিতা-মাতার আন্তরিক দোয়া সন্তানের জীবনে অনেক কল্যাণ ও বরকত বয়ে আনতে পারে।
৪. মানুষের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহকে অসন্তুষ্ট না করা
মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মুমিনের কাছে মানুষের সন্তুষ্টির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি উপেক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষের মনেও তার জন্য সন্তুষ্টি সৃষ্টি করেন। বিপরীতে, আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করলে আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৪)
৫. কথাবার্তায় সংযত হওয়া
মানুষের মুখের একটি কথাও কখনো বড় কল্যাণের কারণ হতে পারে, আবার অসতর্ক একটি বাক্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই জিহ্বার হেফাজত একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, বান্দা কখনো এমন কথা বলে, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, অথচ সে কথাটিকে তেমন গুরুত্ব দেয় না; এর মাধ্যমে আল্লাহ তার মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। আবার এমন কথাও কেউ বলে, যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং এর কারণে সে জাহান্নামে পতিত হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৮)
তাই অনর্থক ও ক্ষতিকর কথা থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কথা বলাই মুমিনের জন্য উত্তম।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ, সদকা, পিতা-মাতার সেবা, মানুষের সন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া এবং কথাবার্তায় সংযম—এই পাঁচটি আমল জীবনে চর্চা করা গুরুত্বপূর্ণ।







