সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম। বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে এ আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আইনজীবী জানান, দীপু মনি যাতে স্বামীর জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে।
তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। চলাফেরার জন্য তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে দীপু মনি ও তৌফিক নেওয়াজের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
প্যারোল কী?
কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে স্বল্প সময়ের জন্য সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়াকে সাধারণত প্যারোল বলা হয়। জরুরি মানবিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল দেওয়া হতে পারে। সাধারণত বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার প্রশাসনিক মুক্তির সুযোগ রয়েছে।
প্যারোল কোনো বিচারিক জামিন নয়; এটি নির্বাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্ত বন্দীকে সাধারণত সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ক্ষেত্রে প্যারোল অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে প্যারোল ও প্রবেশন এক নয়। প্রবেশন আদালতের বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কার্যকর হয়, আর প্যারোল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। ফলে দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।







