প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিকে যুক্ত করার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে ঢাকার আন্তরিকতার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।
সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মনে করিয়ে দেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ঢাকা সেই আমন্ত্রণের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। এমনকি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার দ্বিতীয় আমন্ত্রণের বিষয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া; তা জেনেও দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণের মতো বিষয়কে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া অপেশাদার ও অনাবশ্যক আচরণ।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, সফরের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য শেখ হাসিনাসহ পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অবিলম্বে ফেরত দেওয়া এবং অন্যান্য আসামিদের হস্তান্তরের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ চলমান থাকলেও সফরের কোনো চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।







