বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজপথ দখলের লড়াই, হরতাল, অবরোধ আর ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের পরিচিত দৃশ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখতে দেখতে ছয় মাস পার হয়ে গেলেও রাজপথে বিরোধীদলের সেই পরিচিত উত্তাপ কিংবা জ্বালাও-পোড়াওয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
জ্বালানি সংকট, তীব্র লোডশেডিং এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির মতো বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি সাধারণ মানুষ হলেও, প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির দিকে হাঁটেনি। তারা এই অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের পরিণতিকে দায়ী করেছে। বর্তমান সরকারকে খাদের কিনারা থেকে দেশকে টেনে তোলার সুযোগ দিতেই তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত রয়েছে।
প্রায় তিন মাস আগে দেশে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে তা বৈশ্বিক সংকট এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অব্যবস্থাপনার ফল বলে মন্তব্য করে। আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বদলে দলটি সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে যৌক্তিক সময় ও পরামর্শ দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।
একই সাথে সরকারি দলের নেতা ও বিএনপি নেতারাও বিরোধীদলের এই দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেছেন। রাজপথে ধ্বংসাত্মক আন্দোলন না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকারের আয়না হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এই রাজনৈতিক আচরণকে দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহল একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে।







