আমানত উত্তোলনের চাপ এবং তীব্র আস্থার সংকটে পড়ে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। এটি বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড।
ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ খেলাপির সিংহভাগই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ এবং তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ। ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টিই এস আলম পরিবারের সাথে জড়িত, যাদের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৭,১৭৫ কোটি টাকা। ২০০৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির গোপন ও ভুয়া ঋণ হিসাবগুলো প্রকাশ হতে শুরু করলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে থাকে।
খেলাপি ঋণের এই বিশাল পাহাড় ব্যাংকটির মূলধন ও প্রভিশন বৃদ্ধিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জুন শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২,৩৩৪ কোটি টাকায় এবং প্রকৃত মূলধন ঘাটতি পৌঁছাল প্রায় ৯০,১৮৮ কোটি টাকায়। একই সাথে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৩১৬ কোটি টাকারও বেশি।
গত জুন মাসে তীব্র বিক্ষোভ ও পর্ষদ পুনর্গঠনের জেরে গ্রাহকদের আমানত উত্তোলনের হিড়িক পড়লে ব্যাংকটিতে নতুন করে তারল্য সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে তাদের একজন নির্বাহী পরিচালককে দায়িত্ব অর্পণ করে। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই ব্যাংকটির কার্যক্রম চলায় নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক গতি পুনরুদ্ধারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।







