সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে সম্প্রতি গঠিত নতুন নিরাপত্তা জোট ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দিতে ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের এক প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তবে ইরান সরকার কিংবা জোটের তিন সদস্য সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এ আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছে তেহরান
ইরানের পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থা ‘খানে মিল্লাত’-এর প্রধান মেহদি রাহিমী আল মায়াদিনকে জানান, ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার জন্য ইরান একটি আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের দেশগুলো ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসার দিকে এগোচ্ছে। ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বানের সঙ্গে এ উদ্যোগের মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যৌথভাবে ‘মক্কা চুক্তি’ সই করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ জোট গঠন করা হয়েছে।
চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার একটি নীতি রাখা হয়েছে। এর আওতায় জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জোটটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি।
ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।
সম্প্রসারণের সম্ভাবনা
তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও জোটের সদস্যপদ উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিসরের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তি নিয়ে সতর্ক ও ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করেছে। গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, নতুন এই নিরাপত্তা জোট নিয়ে তেহরানের ‘উদ্বেগের কোনো কারণ নেই’।
তার মতে, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এখন অন্য দেশগুলোও উপলব্ধি করছে।
ইরানকে জোটে অন্তর্ভুক্তির খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা তিন দেশের উদ্যোগে গঠিত এই জোটে ইরান যুক্ত হলে এটি আরও বিস্তৃত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নিতে পারে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট







