মাগুরায় কাঁচাবাজার ও ভায়না মোড় এলাকায় প্রকাশ্যে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরা এক পুলিশ কনস্টেবলকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় থানা থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে। অভিযুক্ত নাইমুজ্জামান নয়ন মাগুরা সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি পদে কর্মরত আছেন।
ঘটনাটির সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে, যখন ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিরছিলেন জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত কনস্টেবল ইমরান হোসেন। কাঁচাবাজারের কাছে প্রাইভেটকার চালিয়ে যাওয়ার সময় সাইড দেওয়া নিয়ে ইমরানের সঙ্গে নয়নের কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে অন্য দুই পুলিশ সদস্য এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ইমরানের সঙ্গে ভায়নার দিকে রওনা হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়নের প্রাইভেটকারটি ভায়নার কাছে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে হঠাৎ ৩ পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের গতি প্রতিরোধ করে। সেখানে আবারও তর্কাতর্কির একপর্যায়ে নয়ন কনস্টেবল ইমরানকে মাথার পেছনে একাধিক চড়-থাপ্পড় মারেন এবং মোবাইল ফোনে তা ধারণ করেন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের মুখে সন্ধ্যার পর নয়নকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা থানায় যান। তারা ঘটনাটিকে সামান্য ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে নয়নের কাছ থেকে মুচলেকা (লিখিত বন্ড) রেখে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী কনস্টেবল ইমরান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিচায়ক কাগজপত্র সাথে থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে তাঁকে গালাগাল, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং স্ট্যান্ড অফিসে আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন নয়নকে আটক ও পরবর্তীতে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







