মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্প (২০) নিজের জীবনের তৃতীয় দশকে পা রাখলেও ক্রমাগত হুমকির মুখে আড়ালে এবং নিভৃত জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও ইরানের সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কায় তিনি কড়া নিরাপত্তা বলয়ে নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখছেন।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করার পর থেকে ব্যারনকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বললেই চলে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় তিনি নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে অতিবাহিত করেছেন। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যারন স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত অন্তর্মুখী এবং সচরাচর বাইরে বের হওয়া বা মানুষের সামনে আসা এড়িয়ে চলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের অনুরাগী ছিলেন। চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ব্যারন মানসিকভাবে ভীষণ প্রভাবিত হন এবং বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন যে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যারনের প্রতি ইরানি হুমকির বিষয়টি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-সমর্থিত গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ৩-এ “ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে” শিরোনামে একটি বিতর্কিত অনুসন্ধানী ভিডিও চিত্র সম্প্রচার করা হয়। সেখানে তাঁর গতিবিধি তুলে ধরে তাঁর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিপুল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি উঠে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানান, তারা ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিও এবং সব ধরনের হুমকির বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, লেবাননের আল মানার টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই এসব অভিযোগ ও প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।







