অন ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় শেষপর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা নাইমুজ্জামান নয়ন। এর আগে গত শুক্রবার তাকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হলেও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে শনিবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে মাগুরা সদর থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার বিকেলে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে নয়নকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। গত শুক্রবার বিকেলে শহীদ বেদির দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় প্রাইভেটকার চালক নয়নের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সাইড দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে বিষয়টি সমাধান করে ইমরানকে নিয়ে ভায়নার দিকে রওনা হন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়ন তার প্রাইভেটকার নিয়ে ভায়না মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে নয়ন কনস্টেবল ইমরানকে সজোরে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রথম দফায় তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা থানায় গিয়ে বিষয়টিকে সামান্য ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ দাবি করলে নয়নকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে একজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার পরও আসামি ছেড়ে দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্রশাসন।







