রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে দুই দিন জেলগেটে তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৪টায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ওসি জিন্নাত আলী মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে সরাসরি আদালতে না এনে ভার্চ্যুয়ালি শুনানি সম্পন্ন করা হয়, যেখানে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনজীবী সুবক্তহীন আসামিদের পক্ষ অবলম্বন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিপ্রদর্শন শেষে বিচারক আগামী তিন দিনের মধ্যে সুবিধাজনক দুই দিন জেলগেটে প্রচলিত সকল নিয়ম মেনে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডিবির পক্ষ থেকে তিন দিনের পূর্ণাঙ্গ রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত জেলগেটে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গত রোববার বিকেলে দুই আসামির মূত্র সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষা করা হলেও এতে ইয়াবা সেবনের কোনো আলামত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে রক্ত, লালা ও প্রস্রাবে তিন দিন এবং চুলে ৯০ দিন পর্যন্ত অ্যামফিটামিনের অস্তিত্ব বজায় থাকতে পারলেও মামলার তদন্ত সংস্থা এখনো তাদের রক্ত বা চুলের নমুনা সংগ্রহ করেনি।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট ঘড়ির মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসভবনে জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী নির্মমভাবে খুন হন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে তাঁরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।







