চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনিয়র এক নারী শিক্ষার্থী ও ব্যাচ প্রতিনিধিকে (সিআর) লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সাইবার বুলিং এবং যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জুনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, লাবণ্য তিশা, তানভীর হোসেন, জোবাইদা বিনতে হোসেন ও সোলাইমান আবির। এদের মধ্যে মারুফ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-ত্রাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক। যদিও দলীয় পদের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন, তবে তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলে এই পদবি উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ আগস্ট, যখন ‘সিইউ ইনসাইডার’ নামক ফেসবুক পেজের সিনিয়র-জুনিয়র শিষ্টাচার সংক্রান্ত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সমন্বিত একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে শেয়ার করা হয়। সেখানে শিষ্টাচার ও আচার-ব্যবহার নিয়ে অশালীন মন্তব্য শুরু হলে ব্যাচ প্রতিনিধি হিসেবে ভুক্তভোগী অনাবশ্যক তর্ক বন্ধের অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আলাদা গ্রুপে ওই নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
ঘটনার পর বিভাগীয় সভাপতির পরামর্শে ভুক্তভোগী প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর জন্য ডেকে পাঠানো সত্ত্বেও হয়রানি থামেনি। অভিযুক্তরা উল্টো নতুন একটি ট্রোল গ্রুপ খুলে সেখানে ভুক্তভোগীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি কভার ফটো হিসেবে ব্যবহার করে পুনরায় ট্রোল করা শুরু করেন। পরবর্তীতে ওই গ্রুপের এক সদস্যের পাঠানো স্ক্রিনশট থেকে বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ জানানোর পরও তা অব্যাহত থাকায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের অন্যতম মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ ঘটনার পেছনে র্যাগিংয়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দাবি করে জানান, তারা যৌন হয়রানি বা ছবি বিকৃতির সাথে যুক্ত নন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী তৌহিদ জানিয়েছেন, বিভাগে সুরাহা না হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাসহ ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী নিশ্চিত করেছেন যে অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







