টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আড়াই বছরের শিশু আব্দুল্লাহর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা বৃষ্টি আক্তারের বিরুদ্ধে। তবে প্রথমদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শিশুটি বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ওয়াসীম মিয়া বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ বৃষ্টি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের খাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসীম মিয়ার আড়াই বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ।
গত ২৪ আগস্ট বিকেলে শিশুটি মায়ের সঙ্গে ঘরে খেলছিল। একপর্যায়ে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েছে বলে স্বজনদের জানান বৃষ্টি আক্তার।
পরে দ্রুত শিশুটিকে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পরই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ
নিহত শিশুটির দাদা-দাদির অভিযোগ, বৃষ্টি আক্তারের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা দাবি করেন।
তারা অভিযুক্ত মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিশুটির মৃত্যুর দিন ধারণ করা একটি ভিডিওতে বৃষ্টি আক্তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিছানা থেকে পড়ে গিয়েই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ যা বলছে
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হত্যা মামলা হওয়ার পর বৃষ্টি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে বৃষ্টি আক্তার নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কী ছিল, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।







