তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থের ভোলা সফর এবং তাঁর বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর বিরুদ্ধে ওঠা ঐতিহাসিক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ভোলায় এক পথসভায় নিজের পরিবারকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই বিরোধী পক্ষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল তাঁর বাবার শাসনামলের কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাল্টা বক্তব্য তুলে ধরছে।
পথসভায় তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর রক্তে কোনো দুর্নীতি নেই এবং তিনি টিআর, কাবিখাসহ সরকারি সব বরাদ্দের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করবেন। তিনি সাবেক মন্ত্রী মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর নাম উল্লেখ করে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তাঁর পরিবারের ধারাবাহিক সমর্থনের আহ্বান জানান। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতির সচেতন মহলে নাজিউর রহমান মঞ্জুর বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময়ের বহু আলোচিত আর্থিক দুর্নীতি ও হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে মন্ত্রী থাকার সময় নাজিউর রহমান মঞ্জুর বিরুদ্ধে তৎকালীন বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল। এমনকি জাতীয় সংসদেও অতীতে তাঁর আয়ের উৎস এবং বিদেশের বিপুল সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বর্তমান তথ্যমন্ত্রীর পরিবারের এমন বিতর্কিত আর্থিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করাকে একটি রাজনৈতিক ‘মুখোশ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন প্রতিপক্ষরা।
অন্যদিকে, সফরের সময় রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে ভোলার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। বিরোধী দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বহুল প্রতীক্ষিত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভোলার সড়ক যোগাযোগ ও সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিতর্ক ও সমালোচনার মাঝেও নিজ নির্বাচনি এলাকায় সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।







