চীন সরকারের মালিকানাধীন বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি ‘কসকো’র (COSCO) বাণিজ্যিক জাহাজে গোপন নজরদারি সরঞ্জাম বসিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক তথ্য সংগ্রহের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনার বরাতে জানানো হয়েছে, কসকোর জাহাজে সংস্থাপিত এসব অত্যাধুনিক সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর উপকূলীয় অঞ্চলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এনক্রিপশন প্রযুক্তির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ছদ্মবেশে থাকা এসব নজরদারি যন্ত্রের সাহায্যে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে চলাচলকারী যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের সংকেত শনাক্তকরণ এবং সেগুলো রিয়েল-টাইমে অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্যগুলো চীন তাঁদের সামরিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সামুদ্রিক রিকনেসান্স এবং আঞ্চলিক জলসীমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধে নিজেদের অবস্থান সুবিধাজনক করতে কাজে লাগাতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
তবে চীন সরকার ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা খণ্ডন করেছে। চীনা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, বেইজিং কখনো কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে গোপন তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ প্রদান করে না। ঘটনাটি কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।







