পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌবহরের আধিপত্য মোকাবিলায় এক নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে চীন। সাধারণত বিমানবাহী রণতরী বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ যুদ্ধব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হলেও চীন একে মূল ভূখণ্ডের সামরিক শক্তির সাথে একীভূত করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাদের কৌশল অনুযায়ী, চীনা ক্যারিয়ারগুলো একা যুদ্ধ না করে স্থলভিত্তিক যুদ্ধবিমান, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপগুলো মূলত নিজ ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে স্বাধীনভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৈরি। যার কারণে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও রসদ সরবরাহকারী বিশালাকার বহরের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিপরীতে, তাইওয়ান প্রণালি ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডের একেবারেই কাছাকাছি। ফলে চীনা ক্যারিয়ারগুলো সহজেই স্থলভিত্তিক সামরিক অবকাঠামোর সরাসরি সহায়তা লাভ করতে পারবে।
চীনের এই সমন্বিত কৌশলে মূল ভূখণ্ডের J-20 ও J-16 যুদ্ধবিমান, H-6 বোমারু বিমান এবং DF-21D ও DF-26-এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে উন্নত স্যাটেলাইট ও সেন্সরের মাধ্যমে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ফলে চীনা ক্যারিয়ারের মূল কাজ হবে সমুদ্রের নির্দিষ্ট অঞ্চলে অতিরিক্ত বিমানশক্তি জোগানো এবং মূল নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ রক্ষা করা।
সম্প্রতি যুক্ত হওয়া চীনের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ এই নেটওয়ার্ক কেন্দ্রিক যুদ্ধকৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই তরীতে ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পূর্বের লিয়াওনিং ও শানডংয়ের তুলনায় অধিক জ্বালানি ও ভারী অস্ত্রসহ J-35 স্টেলথ ফাইটার, J-15T এবং KJ-600-এর মতো যুদ্ধবিমান দ্রুত উড্ডয়নে সাহায্য করবে। তাইওয়ান প্রণালীতে সংঘাত তৈরি হলে ফুজিয়ান দ্বীপটির পূর্বদিকে অবস্থান নিয়ে মূল ভূখণ্ডের ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সমন্বয় করে যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক হস্তক্ষেপ রুখে দিতে পারবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি বিমানবাহী রণতরীর বিপরীতে চীনের সংস্থান মাত্র ৩টি হলেও, বাস্তবতায় এই সংঘাতকে কেবল সংখ্যার বিচারে মূল্যায়ন করা ভুল হবে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সুবিশাল স্থলভিত্তিক সেন্সর ও ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক এই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। চীন মূলত তাদের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধের মাধ্যম হিসেবে না দেখে বিশাল ভূখণ্ডভিত্তিক সামরিক ব্যবস্থার একটি চলমান অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতের নৌরীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







