তীব্র বিতর্ক, ব্যাপক সমালোচনা এবং বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা থেকে পদত্যাগের জোরালো দাবির মধ্যেও ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন না জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টানা চতুর্থ মেয়াদে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হতে তিনি লড়াই করবেন বলে রোববার ফিফার একজন মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ফিফার মুখপাত্র জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে ইনফান্তিনো নিজেই ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর ভাষায়, ‘অবশ্যই কিছুই পরিবর্তন হয়নি, মি. ইনফান্তিনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’ ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা ৫৬ বছর বয়সী এই সংগঠক নির্বাচিত হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কড়া প্রতিবাদ ও বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকির মুখে গত জুলাইয়ে ফিফা ওই পরিকল্পনা বাতিল ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ইনফান্তিনোর ওপর চাপ কমেনি।
বিতর্কিত এই পরিকল্পনার জেরে ইউরোপের উয়েফাসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী মহাদেশীয় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা প্রত্যাহার ও পদত্যাগের দাবি তুলেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার একাধিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিরোধিতা করলেও আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলো এখনো তাঁর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
পোল্যান্ডে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে উপস্থিত হলে সাম্প্রতিক অচলাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান ফিফা সভাপতি। তিনি কেবল মন্তব্য করেন, ‘অনেক কিছু বলার আছে, তবে তা বলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও উপযুক্ত সময় আসবে।’ আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা দাখিলের শেষ সময় থাকলেও এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।







