সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পেছনে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে ছিল কি না, তা নতুন করে খতিয়ে দেখার ও অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২০০৯ সালের ওই দুর্ঘটনা নিছকই কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না বলে চরম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত প্রখ্যাত এই রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কৃষিনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন-আত্মনির্ভরশীল করে তোলার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমানের গৃহীত নীতি দেশি-বিদেশি অনেক প্রভাবশালী গোষ্ঠী পছন্দ করেনি। ফলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছিল কি না—তা উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর দূরদর্শী অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার প্রশংসা করে রিজভী উল্লেখ করেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং নিজেও বাংলাদেশে সাইফুর রহমানের প্রবর্তিত অর্থনৈতিক উদারীকরণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন। দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর পেছনে তাঁর অবদানকে সবসময় স্মরণ রাখার তাগিদ দেন তিনি।
স্মরণসভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির প্রকৃত কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যান।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউস এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খানসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।







