গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার সভাপতি মুজাহিদ হাসানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) স্ট্যাটাস ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, নুর ও রাশেদের আজকের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি ও তাঁদের ‘জাতীয় ফিগার’ বানানোর নেপথ্যে ভূমিকা ছিল জামায়াত-শিবিরের।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাবি শিবির সভাপতি লেখেন, ‘আজকের নুর, রাশেদকে আমরাই তৈরি করেছি। জামায়াত-শিবির লোকবল, অর্থ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে তাঁদের জাতীয় ফিগার বানিয়েছে।’ তবে অভিযোগ তুলে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি পাওয়ার পর স্বার্থের বিনিময়ে তাঁরা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছেন এবং জামায়াত-শিবিরের সহযোগিতার প্রতি অকৃতজ্ঞতা দেখিয়েছেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, একই প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠিত অন্য গোষ্ঠীগুলোও ভবিষ্যতে অকৃতজ্ঞতার পথ বেছে নিতে পারে।
একই সাথে দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নুর ও রাশেদের কিছু বিতর্কিত ভূমিকার বিষয়টিও খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু ভুলত্রুটি এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন ইস্যুতে নীতিগত বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নিজস্ব শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে জামুকা বিলসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নুরের নেওয়া অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবিরপন্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় বিরোধ সামাল দিতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে গালিগালাজপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অতীতে পাল্টাপাল্টি শোকজ ও প্রকাশ্যে বাগযুদ্ধের ঘটনাও সামনে আসে, যা অনেকসময়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত-শিবির নেতৃত্বের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ও নুরে-রাশেদের রাজনৈতিক বিতর্কের ফলে উঠতি রাজনৈতিক শক্তির ওপর সাধারণ মানুষের ট্রাস্ট ডিফিসিট আরও বাড়তে পারে।







