জীবদ্দশায় মা-বাবার সম্পত্তির মালিকানা সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সন্তানকে জীবদ্দশায় মালিকানা দিয়ে দিলে কেউ কেউ মা-বাবার দীর্ঘায়ু কামনা না করে তাদের মৃত্যুর প্রত্যাশা করতে পারে, যাতে সম্পদের ভোগদখল নিশ্চিত হয়।
মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর ভাষ্য, বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের বিধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইসলামী শরিয়াহতে প্রত্যেকের সম্পত্তির অধিকার নির্ধারিত রয়েছে। নতুন কোনো আইন করে শরিয়াহর বিধান উপেক্ষা করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আইনের ফলে পছন্দের ব্যক্তিকে সম্পত্তি দিয়ে অন্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির শুধু কন্যাসন্তান থাকলে শরিয়াহর ফরায়েজ অনুযায়ী চাচাসহ অন্যান্য আত্মীয়দের যে অধিকার রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে হেবা ও মিরাস আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলা হলেও বাস্তবে এর প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইন চূড়ান্ত করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করারও দাবি জানান এই হেফাজত নেতা।
সরকারের সমালোচনা
অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। তার দাবি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ বিভিন্ন সংকটের সমাধান না হওয়ায় জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে এবং বিরোধী দলকে মাঠে থাকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং সনদ বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে এগোচ্ছে না।
তিনি বলেন, জনগণকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা থেকে বিদায়ের কথাও উল্লেখ করেন।






