জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সরকার ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের মাধ্যমে নতুন কোনো কঠোর আইন রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতাদের ওপর প্রয়োগের চেষ্টা করা হলে এর পরিণতি সরকারের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশ কিছু বিতর্কিত আইন বাতিল করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ছিল। পরে ২০২৬ সালে সেটিকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখে আইনে পরিণত করা হয়। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই কেন সরকার সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিকে ব্যবহার করে ইচ্ছামতো আইন পরিবর্তন কিংবা জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকারেরও সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি এখন সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয়গুলোর সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা রয়েছে। এসব বিধান সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জামিন অযোগ্য কয়েকটি ধারারও সমালোচনা করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের মতো বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আইনে থাকা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাতিল করে বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবন ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার চর্চা বাড়ানো গেলে অতিরিক্ত আইন করার প্রয়োজন কমে আসবে।
প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান।
সেমিনারে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, গ্রীন ওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।







