ইরানের মিনাব শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২৩ জন শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার নেপথ্যে মারাত্মক প্রযুক্তিগত ও সামরিক গোয়েন্দা ব্যর্থতা চিহ্নিত হয়েছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, বহু পুরোনো স্যাটেলাইট ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে এই প্রাণঘাতী ভুলটি সংঘটিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিনে মিনাবের ‘শাজারাহ তাইয়্যেবাহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি তোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২৩ শিশুসহ মোট ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের তদন্তে জানা গেছে, আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ‘মেভেন স্মার্ট সিস্টেম’ নামের একটি এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পুরোনো তথ্য থেকে সাবেক সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট হিসেবে সুপারিশ করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলাটি চালিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ব্যবহৃত নথিপত্রে ব্যবহৃত জায়গাটি বহু বছর ধরে সামরিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও বিগত প্রায় এক দশক ধরে এটি একটি পাবলিক স্কুল হিসেবে চালিত হচ্ছিল। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের নজর এড়িয়ে যাওয়া এবং গতি বাড়াতে মানুষের পর্যালোচনার বদলে প্রযুক্তির ওপর অন্ধ বিশ্বাস রাখাটাই এ ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।
এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত দল এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই লক্ষ্যভ্রষ্টতার ঘটনা বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।







