জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির সংস্কারবিরোধী অবস্থানের কারণেই দেশে বর্তমান অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, সংস্কারের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলতঃ শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া ‘ফিটনেসবিহীন’ গাড়ির ভালো ড্রাইভার হতে চেয়েছেন। আর সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ও মরীচিকা ধরা গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসতে সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা তাঁকে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করেছেন।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সালমান মুক্তাদিরের মতো তরুণ ও পাইওনিয়াররা কেবল ক্ষমতার হাতবদল দেখতে রাজপথে নামেনি; তাদের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল পুনর্গঠন ও সংস্কারের মাধ্যমে একটি আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। কিন্তু বিএনপি পতিত স্বৈরাচারের ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার দায় নিয়ে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমানের সংস্কারবিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থায় তরুণ প্রজন্মের জুলাই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রকাঠামোর কোনো স্থান হয়নি। এর বদলে রাষ্ট্রকে আবার দ্রুত গতিতে খামচে ধরেছে মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পরিবারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র, বিচারহীনতা এবং হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-দখলদারিত্বের জঘন্য কালচার।
তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপি সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনগণের প্রতিশ্রুত সময়ের সাথে প্রতারণা করেছে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সাথে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই ভঙ্গুর শাসনব্যবস্থা ও চরম সংস্কারবিমুখতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য পদে পদে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।







