মুসলমানদের দাড়ি নিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের কথিত কটাক্ষপূর্ণ স্লোগানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, সম্প্রতি যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন মুসলমানদের অন্যতম সুন্নাহ এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দাড়ি নিয়ে ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এমন স্লোগান দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জুবায়েরের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য কটাক্ষপূর্ণ ও উসকানিমূলক এবং তা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তিনি বক্তব্যটিকে অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান
জামায়াতের এই নেতা বলেন, কোনো ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মীয় অনুষঙ্গ নিয়ে অবমাননাকর বা কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে। তবে সেই মতপার্থক্যের কারণে কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিচয় বা ধর্মীয় অনুষঙ্গকে কটাক্ষ করা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জুবায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
নয়নকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি
বিবৃতিতে রবিউল ইসলাম নয়নের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান জুবায়ের।
তিনি বলেন, যুবদল নেতা নয়ন তাঁর কথিত বিতর্কিত ও কটাক্ষপূর্ণ স্লোগানের জন্য দেশবাসী এবং বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
জুবায়েরের মতে, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মসূচি যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান
একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছেন জামায়াতের এই নেতা।
জুবায়ের বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল বিএনপির একটি অঙ্গসংগঠন। তাই যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত।
তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে দ্রুত ও সুস্পষ্ট বক্তব্য না এলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—দলটি নয়নের এমন বক্তব্যকে সমর্থন করে কি না।
তাঁর মতে, বিএনপির হাইকমান্ডের উচিত কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না রেখে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জনগণের সামনে পরিষ্কার করা।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সম্প্রীতির আহ্বান
জুবায়ের তাঁর বিবৃতিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতের অমিল থাকলেও ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে আক্রমণের বিষয় করা উচিত নয়। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য যাতে সামাজিক বিভাজন বা উত্তেজনা তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রবিউল ইসলাম নয়নের কথিত স্লোগানকে কেন্দ্র করে জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। জামায়াত বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখছে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রত্যাশা করছে।
তবে নয়নের বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি স্লোগানটি দিয়েছেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বক্তব্যটির মূল ভিডিও বা পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।







