দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া গুলশান ও বিভাগীয় শহর বরিশালে দলটির ঝটিকা মিছিলের পর গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও মাঠ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের গতিবিধি বা গোপন কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্য তারা পাচ্ছেন না। ফলে কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযানে নামতে হচ্ছে, যা মাঠ প্রশাসনের ওপর চরম চাপ তৈরি করছে। তবে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ব্যর্থতার কথা মানতে নারাজ; তাঁদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ অপতৎপরতা ইতোমধ্যে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি গুলশানের মতো সুরক্ষিত এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের যোগসাজশ বা চরম অবহেলার খবর উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। অন্যদিকে, বরিশালে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোরে ঝটিকা মিছিল, আদালত প্রাঙ্গণ ও ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় প্রশাসনিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে। থানা-পুলিশের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আগাম তথ্য না পাওয়ায় সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না, অথচ ঘটনা ঘটে গেলে সমস্ত দায় ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় তাদেরকেই।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ অবশ্য গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশের নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানোর কারণেই অপতৎপরতা কমে এসেছে। বাইরের উপজেলা থেকে দু-একজনকে এনে ঝটিকা মিছিল করার কারণে শতভাগ আগাম খবর পাওয়া দুষ্কর হলেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। কেবল চলতি মাসেই এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৭০ থেকে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নাশকতা দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।







