জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার নম্বরসহ আসামি গাজী নজরুল (৭৫) ও মাকছুদার (৬৫) নাম উচ্চারণ করা হলে গাজী নজরুল মাথা নিচু করে থাকেন। এ সময় কাঠগড়ায় তার পেছনে সরে গিয়ে মাকছুদা ইসলামকে কাঁদতে দেখা যায়।
পুলিশের নিরাপত্তায় হাজতখানা থেকে বের করে সিঁড়ি দিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের পঞ্চম তলায় ৮ নম্বর আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয় তাদের। বেলা ৩টা ১২ মিনিটে পুলিশ তাদের হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেয়। বিচারক তখনও এজলাসে না থাকায় গাজী নজরুল তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।
বেলা ৩টা ১৪ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। আদালতে উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে ৩টা ১৫ মিনিটে শুনানি শুরু করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মরিয়ম খাতুন ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় গাজী নজরুল ও মাকছুদা একই বাসায় ছিলেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাদের জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, গাজী নজরুল একজন সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার বয়স ৭৫ বছর এবং তার স্ত্রীও বয়স্ক। আত্মহত্যায় প্ররোচনার এ মামলায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আসামিপক্ষের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতকে বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম মামলার বাদীর শ্যালককে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মরহুমা মরিয়মকে তার নিয়ন্ত্রণে নেন এবং তাকে বিয়েতে একপ্রকার বাধ্য করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিয়ে যেতেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, বিয়ের পর গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম মিলে মরিয়মকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। মৃত্যুর আগে মরিয়মের লেখা একটি চিরকুটে এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ওনারা জামায়াত ইসলাম করেন। এটা হচ্ছে তার নমুনা।’
এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই মামলার প্রসঙ্গে থাকি। রাজনীতিতে না যাই।’







