সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আগামী বছরের শুরুতে সংশোধনী বিল পাসের পর আবারও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে সংবিধান সংশোধন নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ অবস্থান উঠে আসে। বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন এবং সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।
বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান সংশোধনের পর আবারও গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে। এবার যেহেতু মৌলিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাই আবারও গণভোট আয়োজন করা হবে। এটি সাংবিধানিক গণভোট হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।
বছরের শুরুতেই বিল পাসের আশা
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী বছরের শুরুতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাস করার আশা করছে বিশেষ কমিটি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে তাদের কমিটির আলোচনায় যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুস্তাফিজ শফি বলেন, সাংবাদিকদের এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধী দলকে বৈঠকে সম্পৃক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে বিরোধী দল কমিটির বৈঠকে অংশ না নিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পর আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে কমিটি।
বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান
মুস্তাফিজ শফি জানান, বৈঠকে প্রায় ৫০ জন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এসব মতামত কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধান সংশোধন জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। বিরোধী দল বর্তমানে কমিটিতে নেই এবং তাদের মতামতও পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিরোধী দলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
মুস্তাফিজ শফির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে আন্তরিকতার কথা জানিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব এলে তারা সহযোগিতা করবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুস্তাফিজ শফি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ও এককেন্দ্রিক ক্ষমতা থাকা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান সংশোধনের সময় ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।







