কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে একটি আলোচিত জলমহালের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতাদের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় চায়নিজ কুড়াল হাতে তেড়ে যাচ্ছেন এক ছাত্রদল নেতা—এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম সৈয়দ তাওকির, যিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের ছেলে।
স্থায়ী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শুক্রবার দুপুরে পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজারে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, এতে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
সংঘর্ষের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর ছেলে ছাত্রদল নেতা তাওকিরের অস্ত্রহাতে মহড়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন, মামলা বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা এমনকি অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই তরুণ নেতা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তাওকিরের দাবি, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনি অন্য একজনের হাত থেকে চায়নিজ কুড়ালটি কাড়েন এবং প্রতিপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে যান। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল জানান, ভিডিওর সত্যতা পেয়ে জেলা নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ জানান, অভিযোগ বা ভিডিও সুনির্দিষ্টভাবে পেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তাওকিরের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







