রাজধানীর মিরপুর-১-এর ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাঁদের অনুসারীদের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘটনার দিন গভীর রাতে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীরা জড়ো হয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলায় অংশ নেয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শামীম ও হাসানসহ বেশ কয়েকজন ক্যাডার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়।

তা ছাড়া ঘটনার সময় এলাকা পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি সাদা মাইক্রোবাসে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া, ছাত্রদল নেতা লেলিন ও ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল উপস্থিত ছিলেন বলে উঠে এসেছে। উক্ত গাড়িতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির উপস্থিতির সংশয় থাকলেও তিনি এই হামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য আগের দিনই মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে দুটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) ভাড়া করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’র ক্যাশিয়ার শাহাদাত হোসেন এবং ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মারুফ ভেকু ও স্থানীয় মুখোশধারী বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে সশস্ত্র হামলাকারীরা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে হ্যামার ও ভেকু দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে জেনারেটর, ল্যাবের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ফ্রিজ ও আইটি সামগ্রীসহ প্রায় ৪৬ ধরনের মালামাল কাভার্ডভ্যানে করে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়, যা পরবর্তীতে দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপে না থেকে আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র মা ও শিশুদের টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সীমিত পরিসরে চালু রেখেছেন রাড্ডার স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে সরকার ও প্রশাসনের কাছে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।







