তীব্র কয়লা সংকটের কারণে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দেশটির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লার মজুত গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিশেষ করে রাতের বেলা দেশজুড়ে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিল্পকারখানার নিজস্ব ব্যবহারে ব্যবহৃত ৫০ মেগাওয়াট বা তার চেয়ে বড় ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক ‘ক্যাপটিভ’ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলোর নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের এই জরুরি সংকটের পেছনে দ্বিমুখী কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। একদিকে ভারি বৃষ্টির কারণে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহনে চরম বিঘ্ন ঘটেছে, অন্যদিকে দেশের কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অতিরিক্ত গরম ও সেচের কারণে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা একলাফে প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর নজিরবিহীন বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট ১৯০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮০টি কেন্দ্রেরই কয়লার মজুত এখন চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী মোট ৫৭.৮ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে জমা আছে মাত্র ২২.৩ মিলিয়ন টন, যা দিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।







