রাজধানীর যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বুধবার কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে দ্রুত কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬টি জেলার দূরপাল্লার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে প্রবেশ না করলে ঢাকা শহরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া গুলিস্তান বাস টার্মিনাল বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্মাণকাজের অগ্রগতি
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ।
এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
থাকছে যেসব সুবিধা
প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রায় ৪০৫টি বাস রাখার সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং ব্যবস্থা, ২২টি বাস বে, পাঁচটি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য থাকবে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন ও ১০৬টি টিকিট কাউন্টার। এ ছাড়া পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টার্মিনালে ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমও থাকবে।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক প্রকল্পের কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে কোনো ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন।







