৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেও চূড়ান্ত সরকারি গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বেলাল। পিএসসির সুপারিশ তালিকায় সমাজকল্যাণ বিভাগে দেশসেরা হওয়ার পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম স্থান না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ৪৯তম বিসিএসের গেজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) শিক্ষা ক্যাডারে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত গেজেটে ঠাঁই পেয়েছেন ৬১১ জন। ফলে মেধা তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বাদ পড়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুনসহ মোট ৫৭ জন প্রার্থী। এর আগে একই বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে প্রথম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সোহেল রানার নাম বাদ পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল।
ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পূর্বজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিলেন। মেধা তালিকায় সেরা হয়েও তালিকার বাইরে চলে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ। ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণে ১ম হয়েও আমার গেজেটে নাম এল না। জুলাইয়ে সক্রিয় ছিলাম। আমার অপরাধ কী বুঝতে পারলাম না। এটাই কি আমার অপরাধ? নিশ্চয়ই, আল্লাহ উত্তম ফয়সালাকারী।’
মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনের পরও রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার কারণেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন সচেতন মহল।







