ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সিংস্থ কুম্ভমেলা উপলক্ষে রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আংশিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক চাপ ও বুলডোজার অভিযানের মুখে বাধ্য হয়ে মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির নির্ধারিত অংশ ভাঙতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর ভারতের কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ উন্মোচিত হলেও বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীল সমাজের নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন ও বিজেপি সরকারের এমন দমনপীড়নে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজ যখন ক্ষোভে ফুসছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আওড়ানো তথাকথিত সুশীল ও প্রগতিশীল সমাজ পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো ক্ষুদ্র ঘটনায় বিবৃতি ও প্রগতিশীলতার জ্ঞান বিলানো এই গোষ্ঠীটি ভারতে শত বছরের ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে রহস্যজনকভাবে মুখে কুলুপ এঁটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা প্রশস্ত করার নামে মসজিদের মিনার ও ঝুলন্ত স্ল্যাব ভেঙে ফেলার পাঁতারা করছিল স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য বুলডোজার অভিযান ঠেকাতে শত শত মুসল্লি দিনরাত মসজিদ পাহারা দেন। একপর্যায়ে উচ্ছেদ এড়াতে প্রাঙ্গণের তিন ফুট ঝুলন্ত স্ল্যাব নিজেরা সরিয়ে নেওয়ার শর্তে একপ্রকার বাধ্য হন স্থানীয়রা। কিন্তু সেই চুক্তি উপেক্ষা করে পরদিন সকালে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং টিয়ারশেল ও বলপ্রয়োগ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে বুলডোজারের বিশাল বহর ও ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে জোরপূর্বক মুসল্লিদের দিয়েই মসজিদের ওই অংশটি ভাঙতে বাধ্য করা হয়। ভারতের মাটিতে চরম হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে মুসলিমদের ওপর চলা এই নির্যাতন ও উপাসনালয় ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা চললেও তথাকথিত মানবতাবাদী ও নিরপেক্ষ সুশীলদের এই দ্বিচারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।







