রাজধানীর মিরপুরে গভীর রাতের আঁধারে একের পর এক প্লট দখলের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত। এসব দখলদারির নেপথ্যে ক্ষমতার বলয়ে থাকা বিএনপি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একচ্ছত্র সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা—কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না এই প্রভাবশালী চক্রের গ্রাস থেকে।
সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে রূপনগরের আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের ‘ক’ ব্লকের ১৪ নম্বর প্লটে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। প্লটটির মালিক মো. সুমন হোসেনের অভিযোগ, ভোরের দিকে শত শত টিন ও বাঁশের তৈরি দেউড়ি দিয়ে তাঁর চারপাশ ঘিরে ফেলা হয় এবং ভেতরে অবৈধ স্থাপনা তোলা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের নিয়ে সকালে প্রতিরোধ গড়লে দখলদারেরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ৪ নম্বর প্লটের মালিক এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সাংবাদিকদের জায়গায় থাকা সাইনবোর্ড ভেঙে একই কায়দায় দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্লট দখলের জন্য সুনির্দিষ্ট নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দখলদারেরা আগে থেকেই ‘প্রকল্প অফিস’ নামক আস্তানায় শত শত বাঁশ ও টিনের তৈরি দেউড়ি মজুদ রাখে। রাত গভীর হলে মূল স্থাপনা ভেঙে দেউড়ি দিয়ে পুরো প্লট ঘিরে ফেলা হয়। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিতে আগেই চুক্তি করা কোনো দরিদ্র পরিবারকে সেখানে রাতারাতি তুলে দেওয়া হয়। ফলে আসল মালিকেরা পরে নিজেদের জমি উদ্ধার করতে গেলে চরম আইনি ও সামাজিক বিড়ম্বনার মুখে পড়েন।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর থানায় গেলে রূপনগর থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। এমনকি ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় না, কেবল জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করলেই টহল টিম পাঠানো হয়। এলাকাবাসী জানান, গভীর রাতের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো রূপনগর ও দুয়ারীপাড়া অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবিলম্বে এই সমন্বিত দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।







