ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিজ দলের নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও বর্বর শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন—উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে। ভুক্তভোগী মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওয়াকিটকি হাতে এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ফাহিম ও মাসুদ রানার নেতৃত্বাধীন ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। পরে কলাপাড়ার এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁর ওপর রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্মম এ নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী ফারুক জানান, তিনি জীবন ভিক্ষা চেয়ে অভিযুক্তদের পায়ে ধরে আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা; আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে মারা যাবেন। তবুও তারা আমাকে ছাড়েনি।” পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতেও হাতে ওয়াকিটকিসহ অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে দেখা গেছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন বহিষ্কৃত দুই নেতা। এদিকে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ বাতিল করা হয়েছে এবং সকল নেতাকর্মীকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।







