রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি ইজারাকৃত পুকুরে মাছ চাষে বাধা প্রদান ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। ভাড়ানিয়া পুকুরটি দখলমুক্ত করা ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে বাগমারা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব ডি এম শাহিন, বাগমারা উপজেলা যুবদলের কার্যকরী কমিটির সদস্য শাকিল হোসেন ও যুবদল কর্মী সাইদুর রহমান তাঁদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খাসপুকুরটি দখলে নিয়েছেন এবং মাছ চাষে বাধা দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা নাজমুল জানান, চলতি বছর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোয়াবাড়ী এলাকার ৩৮ শতকের একটি খাসপুকুর আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা নেয় ‘কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। পরবর্তীতে তিনি সমিতির কাছ থেকে পুকুরটি চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। তবে কয়েক দিন পরই অভিযুক্ত শাহিন ও শাকিলের অনুসারী সাইদুর রহমান পুকুরে জোরপূর্বক নিজস্ব মাছ ছেড়ে পুরো পুকুর দখলে নেন এবং নাজমুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার পর নাজমুল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করেন। শুনানিতে দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাইদুর রহমানকে পুকুর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সাইদুর নিজেও ভবিষ্যতে সেখানে না যাওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন। তবে নির্দেশ অমান্য করে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের প্ররোচনায় এখনো পুকুরটি দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই বাগমারা প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডি এম শাহিন ও শাকিল হোসেন। তাঁদের দাবি, পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে সাইদুর রহমানের দখলেই ছিল এবং রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বাগমারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইজারা মৎস্যজীবী সমিতিকেই দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত সাইদুর রহমান পুকুরে আর না যাওয়ার মুচলেকা দিয়েছিলেন।







