কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভারত থেকে আনা মাদকের চালানের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সড়কির (ধারালো দেশীয় অস্ত্র) আঘাতে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটলের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজাহার মেম্বার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল গ্রুপের মধ্যে এলাকা ও নিজস্ব বলয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই-তিন দিন আগে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে আসা মাদকের চালান (মতান্তরে পাতার বিড়ি) ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাত চলাকালে প্রতিপক্ষের সড়কির আঘাতে পটলের ভাই টেঙ্গুরের পেটে মারাত্মক জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে সুমন, হাদু, রাশিদুল, ফটিক, বজলু, আজাদ ও রাজু নামে আরও ৭ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলতঃ সীমান্তঘেঁষা মাদক কারবার নিয়ে উত্তেজনার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।







