বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরা বা প্রত্যর্পণের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে এটি একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া বলে নিশ্চিত করেছে ভারত। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও স্থায়িত্বশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে নয়াদিল্লি আগ্রহী বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ক্ষেত্রে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই বক্তব্যের প্রতি ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জবাব দেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলাই দিল্লির মূল লক্ষ্য। এ সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগামী দিনের সব আলোচনায় ভারত এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ও আইনি প্রক্রিয়া জড়িত রয়েছে। ফলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক নয়, বরং আইনি দৃষ্টিতেই দেখছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ অবস্থান থেকে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, রাজনৈতিক চটক বা জল্পনা-কল্পনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার এখনই বাংলাদেশে ফেরার বা হস্তান্তরের কোনো তাত্ক্ষণিক সম্ভাবনা নেই।







