চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সামান্য পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১) বাদী হয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের নামে গোমস্তাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস ব্যবসায়ী রুবেলের শোরুম থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। ওই ক্রয়ের বিপরীতে তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫শ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাইতে গেলেই আল আমিন নানা টালবাহানা শুরু করেন।
গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকায় পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে কৌশলে একটি ডেকোরেটরের দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। அங்கு পৌঁছানোর পর আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
ব্যবসায়ীর দাবি, হামলাকারীদের নির্বিচার মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরা হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত ব্যবসায়ী রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামনে এসেছে, যেখানে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজে যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতি ছাড়াও মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য এবং আল আমিনকে উপস্থিত লোকজনকে মারধরের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এমনকি তাঁর বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, হামলার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে আল আমিনের লোকজন আরও তিনজনকে একইভাবে মারধর করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না বলে জানান তিনি। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস টেলিভিশন কেনার সুবাদে আড়াই হাজার টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি দাবি করেন, ওই দিন সন্ধ্যার দিকে সোনাঝুরি সিনেমা হলের সামনে টাকা মীমাংসার জন্য বসার পর রুবেল উচ্চবাচ্য করায় তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তাঁর দাবি, রুবেলের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে তিনি আগে থেকেই টাকা পেতেন, যা ওই হিসাবের মাধ্যমেই মেটানোর কথা ছিল। রুবেলকে মারধরের পেছনে অসম্মানজনক কথা বলার কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, ব্যবসায়ীকে মারধরের এই ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।







