পবিত্র জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সাধারণ মুসল্লি ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের অপসারণ চায়—এমন দাবি ও গুঞ্জন তুলে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এবং বিএনপির নির্বাচনী শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অবস্থান নেন।
জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বায়তুল মোকাররমে চরম হট্টগোল ও মারমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওলামা দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সমর্থকরা জমায়েত হয়ে ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সাধারণ মুসল্লি বেশে আসা একদল ব্যক্তি একাধিক ব্যক্তিকে ‘জামায়াত-শিবির’ ট্যাগ দিয়ে নামাজ আদায়ে বাধা দেন এবং মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
একই সময়ে জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ‘মঞ্চ ২৪’-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আকস্মিক মবের শিকার হন। ছাত্রদল ও ওলামা দলের চিহ্নিত কিছু কর্মী-সমর্থক তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারমুখী আচরণ করে এবং হামলার চেষ্টা চালায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই ফাহিম ফারুকীকে লক্ষ্য করে ভীতিপ্রদর্শন ও মব করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, বহিরাগত কিছু যুবক জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই মসজিদে মব করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল। তারা খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার খতিব আখ্যা দিয়ে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান জোরদার করে এবং বায়তুল মোকাররমকে ‘দখলমুক্ত’ করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাস্তবে বায়তুল মোকাররম দখল করতে কোনো পক্ষই আসেনি; বরং কাল্পনিক প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতেই বিএনপি ও তাদের শরিক দলের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গেট দখল করে এই অপ্রীতিকর মবের জন্ম দিয়েছে। জাতীয় মসজিদের ভেতরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থানে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মুসল্লিরা।







