মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরনে থাকা স্যুটের ভেতরের লেবেলে উঠে এসেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে আয়োজিত এক রাজনৈতিক র্যালিতে নেভি-ব্লু স্যুটের জ্যাকেট খোলার পর ক্যামেরায় দেখা যায় তাঁর পোশাকের ভেতরের ব্র্যান্ড লেবেল ‘জোস এ ব্যাংক’ (Jos. A. Bank)।
খ্যাতমান মেন্সওয়্যার বিশেষজ্ঞ ডেরেক গাই বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এনে জানান, ‘জোস এ ব্যাংক’-এর মতো ব্র্যান্ডের স্যুট মূলত বাংলাদেশ ও চীনের মতো দেশে উৎপাদিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের আমদানিকৃত স্যুট পরিধান করা বিশ্ব পোশাকবাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের বার্তাই দেয়।
‘জোস এ ব্যাংক’ যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা পোশাক প্রতিষ্ঠান ‘টেইলর্ড ব্র্যান্ডস’-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসেবে পুরুষদের পোশাকের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে তৈরি করে থাকে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বেপজার তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সাল মেন্সওয়্যার’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহৃত ব্র্যান্ডসহ বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর ব্লেজার, স্যুট ও ট্রাউজার তৈরি করে। রোমানিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম স্যুট প্রস্তুতকারক কারখানা হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত ইউনিভার্সাল মেন্সওয়্যার কারখানায় পৌনে ছয় হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। বার্ষিক প্রায় ৫০ লাখ পিস পোশাক উৎপাদনের ক্ষমতা থাকা কারখানাটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭.৮৮ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পরিহিত পোশাকে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনেও ট্রাম্প ব্র্যান্ডের শার্ট ও অনুষঙ্গ বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল, যা বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ মঞ্চে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন করে তুলে ধরে।







