রোমানিয়ার প্রাচীন লবণখনির প্রায় ৪০০ ফুট গভীরে গড়ে উঠেছে এক বিস্ময়কর বিনোদনজগৎ। একসময় যেখানে লবণ উত্তোলনের কাজ চলত, বর্তমানে সেই স্থানেই তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী ভূগর্ভস্থ থিম পার্ক ‘স্যালিনা তুরদা’। এখানে রয়েছে নাগরদোলা, মিনি-গলফ, বোলিং খেলার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ হ্রদে নৌবিহারের সুযোগ।
দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো স্যালিনা তুরদা বিশ্বের প্রাচীন লবণখনিগুলোর অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে বিপুল পরিমাণ লবণ উত্তোলন করা হয়েছে। খননকাজের ফলে মাটির গভীরে তৈরি হয় বিশাল বিশাল গুহা। পরবর্তী সময়ে এসব ভূগর্ভস্থ স্থানকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।
লবণখনির গভীরে বিস্ময়কর জগৎ
স্যালিনা তুরদায় প্রবেশ করেই দর্শনার্থীরা দেখতে পান বিশাল লবণের দেয়াল। চারপাশের পরিবেশ এতটাই ব্যতিক্রমী যে মনে হয়, পৃথিবীর উপরিভাগ ছেড়ে তাঁরা যেন অন্য কোনো জগতে প্রবেশ করেছেন।
ভূগর্ভস্থ এই বিনোদনকেন্দ্রে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ফেরিস হুইল বা নাগরদোলা। দর্শনার্থীরা চাইলে এখানে মিনি-গলফ ও বোলিং খেলতে পারেন। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ হ্রদের পানিতে নৌকায় ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।
লিফট ও সিঁড়ি দিয়ে যাতায়াত
ভূগর্ভের এই বিনোদনকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা। তবে ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহীরা দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়েও নিচে নামতে পারেন।
একসময় যে স্থানে শ্রমিকদের ব্যস্ততা ছিল এবং চলত লবণ উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ, সেটিই এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ইতিহাস, প্রকৃতি ও আধুনিক বিনোদনের অনন্য সমন্বয় স্যালিনা তুরদাকে বিশ্বের ব্যতিক্রমী ভূগর্ভস্থ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত করেছে।
পরিত্যক্ত খনির নতুন পরিচয়
স্যালিনা তুরদা মানুষের সৃজনশীলতা ও পরিকল্পনার এক অসাধারণ উদাহরণ। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, একসময়কার পরিত্যক্ত বা শিল্পকার্যে ব্যবহৃত কোনো স্থানকেও পরিকল্পিতভাবে নতুন রূপ দিয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।
ভূগর্ভের গভীরে নাগরদোলা, খেলাধুলা ও নৌবিহারের মতো ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে স্যালিনা তুরদা পর্যটকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম।







