ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যোগসাজশ ও দেশে নাশকতার ছক কষার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া এই কর্মকর্তা দীর্ঘ দিন ধরে ভারতীয় হ্যান্ডলারদের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় নিযুক্ত ‘র’-এর সাবেক স্টেশন চিফ রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন গুলশান আরা। তাঁর সরাসরি নির্দেশে অন্তত আটজন সেনা কর্মকর্তাকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলেন তিনি, যাঁদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাও ছিলেন। এসব অনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জেরে ২০১৯ সালে তাঁকে দেশের সব সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত (পিএনজি) ঘোষণা করা হয়। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক প্রভাবে মাত্র চার মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হিসেবে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবসহ সেনানিবাসে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মিত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করতেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও তাঁর নাগালে চলে আসে, যা পরবর্তীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কার্যালয়ে সংস্থাটির মিনিস্টার (কনস্যুলার ও শিক্ষা) সুভাষ রামকৃষ্ণন পিল্লাইয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ গোপন বৈঠক করেন। দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও ভারতীয় হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার যে ছক আঁকা হচ্ছিল, তাতে কাজী গুলশান আরার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। গোয়েন্দা নজরদারির পর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সায়ের জানান, ভারতীয় হ্যান্ডলার ও দেবাশীষের সঙ্গে মিলে তিনি দেশব্যাপী নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দেশত্যাগ করলেও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা থেকে যান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কিছু সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।







