যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও অপদস্থ করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক ধীরগতি এবং সরকারের অভ্যন্তরে সমঝোতার প্রচেষ্টার কারণেই পলাতক আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম এসব বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে ডাকসু ভিপি বলেন, নিউইয়র্কে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে পলাতক আওয়ামী লীগের কয়েকজন সদস্য। জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া এই ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর এমন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া দেশে ন্যায়বিচার ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে অস্বাভাবিক ধীরগতি ও গড়িমসি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরে সমঝোতার প্রচেষ্টারও বিভিন্ন ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে দলটির সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দেশ-বিদেশে অপতৎপরতা চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে বারবার হেনস্তার ঘটনা ঘটলেও সরকারের নির্লিপ্ততা হতাশাজনক।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগসাজশ কিংবা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য থাকলে তা তদন্ত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাদিক কায়েম।






