চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। এ অবস্থায় উপাচার্য অভিযোগ করেছেন, তাঁরা অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, “আমরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। গতকালের রাতটিও আমাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।”
নিজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমি এই মুহূর্তে কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব।”
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য নাশতা পাঠান। সকালে এক দফায় তাঁদের জন্য নাশতা পাঠানো হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মী, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দেন এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ছেড়ে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
সোমবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। দিনভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন।
একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারার মধ্যে চুয়েটের চিকিৎসকেরা প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ও তাঁর সঙ্গীরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপাচার্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।






