ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের তেল স্থাপনায় হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে এ হামলার পর আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
এর আগে ইয়েমেনের সানা, রাস ঈসা বন্দর ও হোদেইদা প্রদেশের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির দাবি, হুতিরা এসব জ্বালানি ডিপো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার সচল রাখতে ব্যবহার করছিল। এর জবাবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ আখ্যা দিয়ে রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে কঠোর পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দেন।
সানায় হামলার পরপরই সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিরা ছয়টি ড্রোন ও ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করলেও রিয়াদে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষে ৪ জন আহত হন এবং ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গত শনিবার ও রোববারের হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরে ১৪ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো সেখানে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের মাধ্যমে হুতিদের উৎখাতে জোরালো হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের এই হামলার জন্য চরম পরিণতি ভোগ করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নতুন করে শুরু হওয়া এই দফায় দফায় হামলায় আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়া এবং দুই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও রেডক্রস।







