উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলে ৩০ জন বাংলাদেশিকে পাচার এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে ঠেলে দেওয়ার এক নারকীয় ঘটনার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্রোন হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
নিয়োগকারী চক্র ও মানবপাচারকারীরা ওই বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরই প্রতারণার জালে ফেলে। তাদের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সরাসরি তুলে দেওয়া হয় রুশ সেনাবাহিনীর হাতে। সেখানে বাধ্যতামূলক ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে কোনোরূপ প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের ঠেলে দেওয়া হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সংঘাতপূর্ণ ফ্রন্টলাইনে।
এসআরবির চাঞ্চল্যকর তথ্যে উঠে এসেছে, ফ্রন্টলাইনে মূলত ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবস্থান ও দূরত্ব চিহ্নিত করতে বাংলাদেশিদের মানবঢাল বা ‘ড্রোন টোপ’ (Decoy) হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রুশ বাহিনী তাদের খোলা মাঠে সামনে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলার তীব্রতা ও হামলার নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করত। ড্রোন হামলায় বাংলাদেশিরা প্রাণ হারানোর পরপরই তা দেখে ইউক্রেনীয় ফায়ারিং পজিশন চিহ্নিত করত রুশ সেনারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। ভালো কাজের মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারক চক্রটি প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীদের প্রায় সবাই ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত পরিবারের সন্তান।
বর্তমানে নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও শোকের মাতম। অনেকেই সুদূর যুদ্ধের ময়দানে স্বজনের নির্মম মৃত্যুর খবর পেলেও প্রিয়জনের শেষ সম্বল মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় বা সরকারি সমর্থন পাচ্ছেন না। মানবপাচারকারী চক্রের এ ধরনের নারকীয় কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাগরিকদের সুরক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চরম ব্যর্থতা নিয়ে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।







