জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত গডফাদার ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো প্রোটন ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে জুলাইয়ের এই খুনিদের নিরাপদ অবস্থান ও অবাধ চলাফেরা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যখন নিজ দেশেই তীব্র ভোটার তালিকা সংস্কার আন্দোলন ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে—যেখানে দিল্লির নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে বাহ্যিক নানা প্ররোচনার খোঁড়া অজুহাত খুঁজছেন—তখনই উন্মোচিত হয়েছে চরম দ্বিমুখী নীতি। ভারতের মাটিতেই গড়ে উঠেছে জুলাইয়ের গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষ পলাতক খুনিদের বিশাল অভয়াশ্রম।
জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবে সরাসরি নির্দেশদাতা ও খুনি শামীম ওসমান কেবল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্যই অভিযুক্ত নন; বরং মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাসহ বছরের পর বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে ত্রাস ও অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার মূল হোতা তিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া এই সন্ত্রাসীকে দিল্লি সরকার কেবল আশ্রয়ই দেয়নি, বরং সেখানে বসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী ষড়যন্ত্রে তাদের প্রকাশ্য মদদ দেওয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতির এই অন্ধ সমীকরণ এবং গণহত্যাকারীদের প্রতি ভারতের এই নগ্ন পৃষ্ঠপোষকতা বাংলাদেশের জনগণের আত্মমর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই যদি এই খুনিদের আন্তর্জাতিক কূটনীতির নামে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়, তবে তা এ দেশের জনগণ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। অবিলম্বে খুনি শামীম ওসমানসহ সকল পলায়নপর অপরাধীকে কূটনৈতিক চ্যানেলে দেশে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করার জোর দাবি উঠেছে।







